লাইলাতুল কদর বা শবে কদর কি? শবে কদরের ফজিলত ও আমল
শবে কদর’কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনী আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। লাইলাতুল কদর বা লাইলাতুল নিসফে মিন শাবান এর রাত্রিতে আল্লাহ মুশরিক ও বিদ্বেষে লিপ্ত মানুষ ছাড়া অন্যদেরকে ক্ষমা করেন। তাই এই রাতটিকে মুসলমানরা ভাগ্য রজনী হিসেবেও সম্মানিত করে। তবে মানুষ সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে সবার ভাগ্য লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে এবং কলম তুলে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত অন্য এক সময় আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
শবে কদর অর্থ হলো মর্যাদাপূর্ণ রাত। লাইলাতুল কদরের রাত হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত। পবিত্র কুরআনুল কারিম নাযিলের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই রাতকে হাজারের মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ উত্তম ও মহা সম্মানিত রাত হিসেবে আমারদের জন্য দান করেছেন।
প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ দশকের রাতগুলোর মধ্যে কোনো এক বিজোড় রাত হলো লাইলাতুল কদরের রাত। এ রাতে মহান আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মাদিকে হাজার মাসের ইবাদত-বন্দেগি ও আমলের সমান সাওয়াব দান করে। কুরআনুল কারিমের অন্য স্থানে এ রাতটিকে বরকতময় রাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূরা কদরঃ
সুতরাং লাইলাতুল ক্বদরের রাতে আল্লাহর ওইসব বান্দারা সবচেয়ে বেশি সম্মানিত ও মর্যাদার অধিকারী হবেন, যাদের সঙ্গে কুরআনের সম্পর্ক বেশি। যিনি কুরআন-সুন্নাহর আলোকেই নিজের জীবন পরিচালিত করবেন। বাস্তবজীবনে কোরআন-সুন্নাহর আমলে সাজাবেন জীবন। আর তারাই হবেন সফল।
রমজানের শেষ দশদিনের যেকোনো বেজোড় রাতে লাইলাতুলকদর তালাশ করা যায়, অর্থাৎ ২১,২৩,২৫,২৭,২৯ রমজান দিবাগত রাতগুলো। তবে অনেক আলেমদের গবেষণা ও ব্যাখ্যায় এবং বুজুর্গানেদ্বীনের মতে ২৬ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ সাতাশ তারিখে পবিত্র শবে কদরের অন্যতম সম্ভাব্য রাত।
হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর
রাসুল!
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, আমি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী (দোয়া) পড়বো?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি বলবে-
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আ’ফুয়্যুন; তুহিব্বুল আ’ফওয়া; ফা’ফু আ’ন্নী।’
লাইলাতুল কদরের মর্যাদাঃ
উম্মতে মুহাম্মদীর উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি কদরের রাতের সন্ধানে (রমজানের) প্রথম ১০ দিন
ইতিকাফ করলাম। এরপর ইতিকাফ করলাম মধ্যবর্তী ১০ দিন। তারপর আমার প্রতি ওহি নাযিল করে জানানো হলো যে, তা শেষ ১০ দিনে রয়েছে। সুতরাং
তোমাদের যে ইতিকাফ পছন্দ করবে, সে যেন ইতিকাফ করে। তারপর মানুষ (সাহাবায়ে কেরাম) তাঁর সঙ্গে ইতেকাফে শরিক হয়।’ (মুসলিম শরীফ)
লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের রাতের ফজিলতঃ
মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল হওয়ার কারণে অন্যসব মাসের চেয়ে রমজান মাস বেশি ফজিলত ও বরকতময় হয়েছে। আর রমজানের রাতগুলোর মধ্যে কোরআন
নাযিলের রাত লাইলাতুল ক্বদর সবচেয়ে তাৎপর্যমণ্ডিত একটি রাত।
এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি একে নাযিল করেছি কদরের রাতে। তুমি কি জান ক্বদরের রাত কি? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
(সূরা: কদর, আয়াত: ১-৩)।
এ আয়াতের ব্যাখায় মুফাসসিরকুল শিরোমণি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘এ রাতের ইবাদত অন্য হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম’।
(তানবিরুল মিকবাস মিন তাফসিরে ইবনে আব্বাসঃ ৬৫৪ পৃষ্ঠা)।
তাবেয়ি মুজাহিদ (র.) বলেন, এর ভাবার্থ হলো, ‘এ রাতের ইবাদত, তেলাওয়াত, দরুদ কিয়াম ও অন্যান্য আমল হাজার মাস ইবাদতের চেয়েও উত্তম। ’
মুফাসসিররা এমনই ব্যাখ্যা করেছেন। আর এটিই সঠিক ব্যাখ্যা। (ইবনে কাসির: ১৮ খণ্ড, ২২৩ পৃষ্ঠা)।
শবে কদরের আমলঃ
লাইলাতুল কদর পেলে এ আমল ও দোয়ার মাধ্যমে রাত অতিবাহিত করা জরুরি। তা হলো-
১. নফল নামাজ পড়া।
২. মসজিদে ঢুকেই ২ রাকাত (দুখুলিল মাসজিদ) নামাজ পড়া।
৩. দুই দুই রাকাত করে (মাগরিবের পর ৬ রাকাত) আউওয়াবিনের নামাজ পড়া।
৪. রাতে তারাবির নামাজ পড়া।
৫. শেষ রাতে সাহরির আগে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া।
৬. সম্ভব হলে সালাতুত তাসবিহ পড়া।
৭. সম্ভব হলে তাওবার নামাজ পড়া।
৮. সম্ভব হলে সালাতুল হাজাত পড়া।
৯. সম্ভব হলে সালাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল নামাজ বেশি বেশি পড়া।
১০. কুরআন তেলাওয়াত করা। সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা মুয্যাম্মিল, সুরা মুদ্দাসির, সুরা ইয়াসিন, সুরা ত্বহা, সুরা আর-রাহমান, সুরা ওয়াকিয়া, সুরা মুলক, সুরা কুরাইশ এবং ৪ কুল পড়া।
১১. দরূদ শরিফ পড়া।
১২. তাওবাহ-ইসতেগফার পড়া। সাইয়্যেদুল ইসতেগফার পড়া।
১৩. জিকির-আজকার করা।
১৪. কুরআন-সুন্নায় বর্ণিত দোয়াপড়া।
১৫. পরিবার পরিজন, বাবা-মা ও মৃতদের জন্য দোয়া করা, কবর জেয়ারত করা।
১৬. বেশি বেশি দান-সদকা করা।
Search Keywords:
lailatul kodorer fojilot, sobe kadar er raat er fojilot, what is sobe kodor, sobe kadar er raat a ki hoy, Sobe kodor er jikir, Lailatul kodor er dua, Shobe kodorer amol, Sobe kodor er amol, Laylatul Qadr Dua bangla, Sobe kodor ebadot, Laylatul Qadr namaz bangla, Sobe kodor er namaz porar niom, Sobe kodor er namaz koy rakat, Kodor namaz koto rakat,
Sobe kodor er amol, Shab e qadr namaz
koi Rakat, Qadar er namaz, Lailatul Qadr namaz koto rakat, Sobe kodor er dua,
sura kodor, Sobe kodor er tasbih, Sura kodor bangla, Sura kodor pdf, Surah qadr
bangla pdf, Sura jiljal bangla, Surah qadr bangla meaning, sura kodor picture
hd, sura kodor bangla uccharon,
শবে কদরের নামাজ কয় রাকাত কিভাবে পড়তে হয়, সুরা কদর, সূরা কদরের বাংলা অর্থ ও উচ্চারণ, শবে কদরে বিশেষ কোনো নামাজ আছে কি, শবে কদরের
নামাজের নিয়ম ও দোয়া, লাইলাতুল কদরের আমল ও ফজিলত, লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের ফজিলত ও আমল, ‘লাইলাতুল কদর’এ কি কি ইবাদত করবেন,
সুব্হানাল্লাহি ওয়াল হাম্দু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর, শবে কদর কি, শবে কদরের রাতের ফজিলত, সূরা কদর
বাংলা
উচ্চারণ ও অর্থসহ,

